বাঁধনবার্তা

সত্যের সন্ধানে নির্ভীক

সরকারি তথ্যে জ্বালানি তেলের 'রেকর্ড মজুত', বাস্তবে কেন হাহাকার?

বগুড়া, 23 Apr, 2026
ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি তেল না পাওয়ার অভিযোগ অনেকের। অথচ সরকার বলছে, ইতিহাসের সব থেকে বেশি পরিশোধিত জ্বালানির মজুত এই মুহূর্তে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।

জ্বালানি তেল নিয়ে দেশের সরেজমিন চিত্র এবং সরকারি তথ্যের এই বিপরীত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্নই ঘুরেফিরে সামনে আসছে- মজুত ও সরবরাহ যদি পর্যাপ্তই থাকে তাহলে এত তেল যাচ্ছে কোথায়?

এক্ষেত্রে অবৈধ মজুত আর 'প্যানিক বাইংয়ের' বিষয়টি সামনে আনছেন অনেকে। এছাড়া পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জ্বালানি তেলের 'মৌসুমি ব্যবসায়ী' তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তেল না পেয়ে, দ্বিগুণ দামে খোলাবাজার থেকে কিনেছেন বাগেরহাটের বাসিন্দা প্রহ্লাদ দে।

"কারো কারো তো এটা ব্যবসা হইছে নতুন। সকালে বাইক নিয়ে বের হয়, সারাদিন পাম্পে পাম্পে ঘোরে। তেল নিয়ে এলাকায় গিয়ে ১২০ টাকার তেল ২২০-২৫০ টাকায় বিক্রি করে," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।
মাগুরার বাসিন্দা মোটরসাইকেল চালক আবু সাঈদ রাজিব বলছেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে নানা অনিয়ম হচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই।

"ট্যাগ অফিসার দেখিনি, তবে সব পাম্পেই পুলিশ আছে। আর থাকলেও লাভ কী? কে শোনে কার কথা। স্থানীয় পর্যায়ের অনেক মানুষ এগুলো মানে না," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

"ভয়াবহ অবস্থা, কেউ প্রভাব খাটাচ্ছে; আবার কেউ এক-দুইশো টাকা দিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে বেশি তেল নিয়ে নেচ্ছে, যারা নিয়ম মেনে লাইনে দাঁড়ায়- তারা আছে দুর্ভোগে," বিবিসি বাংলাকে বলেন রাজশাহীর প্রেইভেটকার চালক আব্দুল কাদের।
তাহলে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রুখে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতে ভ্রাম্যমান আদালত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো কি কাজে আসছে না?

এক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নিতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

তারা বলছেন, সরকারের দেওয়া তথ্যে মানুষ কেন আস্থা পাচ্ছে না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত দিন

মন্তব্যসমূহ

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।